logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাতীয় ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৬ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, নভেম্বরে ভোট শুরুর পরিকল্পনা: সিইসি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৬ পূর্বাহ্ন জাতীয়
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, নভেম্বরে ভোট শুরুর পরিকল্পনা: সিইসি


ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, আবহাওয়া ও অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। একজন নির্বাচন কমিশনার বিদেশে থাকায় সাক্ষাতে অংশ নিতে পারেননি।


প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের বৈঠকে সিইসি রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। জবাবে রাষ্ট্রপতি সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও দেশে-বিদেশে প্রশংসিতভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানান।


সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় নির্বাচনের মতো পেশাদারিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে আয়োজনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি কমিশনকে স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা চাপিয়ে দেননি; বরং নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন বলে জানান সিইসি।


স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। আচরণবিধি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ফিরে এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল তৈরির কাজ শেষ হলেই কমিশন তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।


তিনি বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুটি নির্বাচনের সময় যাতে পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেদিকেও কমিশনকে নজর রাখতে হচ্ছে।


সিইসি জানান, সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়া সম্ভব হলে বছরের শেষ দিকে কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা যাবে এবং ধাপে ধাপে বাকি নির্বাচন আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত গড়াতে পারে।


নির্বাচনের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন সিইসি। বন্যা, দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততা এবং আগামী বছর রমজান, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমের কারণে উপযোগী সময় সীমিত। এ ছাড়া শীতকালে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষকদের ব্যবহার নিয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোট শুরু করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।


কোন এলাকাগুলো অগ্রাধিকার পাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আইন অনুযায়ী আগেই শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগের মতো ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় ও পার্বত্য এলাকার আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে শুষ্ক মৌসুমে এসব অঞ্চলের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।


পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে সিইসি জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সীমিত পরিসরে দেশি ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ রাখতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে একটি ম্যানুয়াল তৈরির কাজ চলছে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভা করবেন। প্রয়োজনে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান সিইসি।


সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিরোধের বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি নির্বাচন কমিশন পেয়েছে কি না—জানতে চাইলে সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। চিঠি পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচনের লক্ষ্য সম্পর্কে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, অর্থনীতির ‘কনজিউমার সুভারেনটি’ বা ক্রেতার সার্বভৌমত্বের মতো নির্বাচনে ‘ভোটার সুভারেনটি’ বা ভোটার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় কমিশন। অর্থাৎ ভোটারদের ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত।


তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যে মান বজায় রাখা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অন্তত সেই মান, গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন রয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17267
Page of