সিদ্ধান্ত হয়নি, সিলেটে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত
সিলেট প্রতিনিধি:
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনসহ চার দফা দাবিতে সিলেটের ২৩টি চা-বাগানে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন চা শ্রমিকরা। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে চার দফা দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট ভ্যালি বি-৭৭ রেজিস্টার্ড ইউনিয়নের আলীবাহার চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে প্রগতি যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থা, আলীবাহার, সিলেট।
চা শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল, চা শ্রমিকদের আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ঘোষণা ও আয়োজন করা।
বিক্ষোভ মিছিলে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন সিলেট সদর উপজেলার ৬ নম্বর টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক। তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে স্বল্প মজুরিতে একটি পরিবারের দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। চাল, ডাল, তেল ও সবজির দাম সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন টুকেরবাজার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজ আহমদ এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদপ্রার্থী সালমা বেগম।
কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য দেন প্রগতি যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাউছার আহমেদ (সাগর), আলীবাহার পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শ্যামাচরণ গোয়ালা, আলীবাহার পূজা কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ গোয়ালা এবং আলীবাহার পঞ্চায়েত কমিটির সহসভাপতি নাজমা বেগম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে এই মজুরি কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই মজুরিতে একটি পরিবারকে দুই বেলা খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিসহ চার দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
প্রশাসনের অবস্থান
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, চা শ্রমিকদের দেওয়া স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে তাদের মতামত ও সুপারিশ দেবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচন আয়োজন করবে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেন। ওই সময় চা-বাগানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্ত দল গঠনের কথা জানানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
কর্মবিরতি চলবে কতদিন?
শ্রমিকদের কর্মসূচিটি অনির্দিষ্টকালের দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি হিসেবে চলছে। ২৬ আগস্ট থেকে সিলেট ভ্যালির ২৩টি চা-বাগানে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি শুরু হয় এবং পরবর্তী দিনগুলোতেও তা অব্যাহত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত চার দফা দাবি পুরোপুরি মেনে নেওয়া বা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না এলে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি আরও কঠোর করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।