logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সারাদেশে ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

নুসরাত হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ১০

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন সারাদেশে
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন
নুসরাত হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ১০

অনলাইন ডেস্ক।

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।


সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর এ রায় ঘোষণা করেন।


মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।


মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন—নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ ও উম্মে সুলতানা পপি।


খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন—রুহুল আমিন, মাকসুদুল আলম, হাফেজ আবদুল কাদের, আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।


এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দণ্ডিত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।


মামলার নথি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাতের মা শিরীন আখতার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।


২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।


নুসরাতের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ওঠে। তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।


পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে এবং আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য ২০২৬ সালের ১০ জুন প্রধান বিচারপতি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। ওই বেঞ্চে নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি হয়।


গত ২৮ জুলাই মামলাটির শুনানি শুরু হয় এবং ২০ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়। প্রায় সাত বছর পর সোমবার হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে বড় পরিবর্তন এলো।


হাইকোর্টের এ রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। একই রায়ে নিম্ন আদালতে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক মন প্রয়োগের ঘাটতি নিয়েও আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17171
Page of