দিরাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মসূচিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকারের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু ও সদস্যসচিব তানবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে দিরাই সরকারি কলেজ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে দিরাই সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সালমান আহমেদ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মসূচিতে দিরাই উপজেলায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবারের লোকজন এবং ইউএনও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সালমান আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ইউএনওর কাছে অভিযোগ করা হলেও কোনো সুরাহা করা হয়নি। বরং আন্দোলন করলে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউএনও সনজীব সরকার ছাত্রজীবনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ দাবির পক্ষে তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও সনজীব সরকারের বক্তব্যও প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচি কী কারণে হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।
ছাত্রদল নেতারা আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং নিয়োগ পরীক্ষার সভাপতির দায়িত্বও ইউএনও পালন করছেন। ফলে একই ব্যক্তির অধীনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তারা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান।
কর্মসূচি থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সমাধান না হলে ইউএনওর অপসারণের দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে খানা জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং প্রাথমিকভাবে ৬৯৭টি পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়।