logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ধর্ম ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
আখেরি চাহার শোম্বা: তাৎপর্য ও শিক্ষা

নবিজির প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ন ধর্ম
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ন
নবিজির প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর

সিলেট প্রতিনিধি: সফর মাসের শেষ বুধবারকে ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ বলা হয়। মুসলিম বিশ্বে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হয়ে থাকে। এ উপলক্ষে আখেরি চাহার শোম্বার তাৎপর্য ও শিক্ষা তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।


তিনি বলেন, ফারসি ভাষায় ‘আখের’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারই আখেরি চাহার শোম্বা নামে পরিচিত। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, এ দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) শেষবারের মতো অসুস্থতা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছিলেন। এ কারণে মুসলমানরা দিনটিকে শুকরিয়ার দিন হিসেবে পালন করে থাকেন।


হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, মহানবী (স.)-এর জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ, আচরণ ও পদক্ষেপ মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। পবিত্র কোরআনে বিভিন্নভাবে তাঁর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।


তিনি বলেন, নবুওয়াতের প্রথম অধ্যায় মক্কি জীবনের ১৩ বছর মহানবী (স.)-কে নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে। হিজরতের পর মদিনায় গিয়েও তিনি ইহুদি ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন। মক্কার কাফেররা মদিনার ইহুদি ও মুনাফিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্নভাবে তাঁকে অশান্তিতে রাখার চেষ্টা করে। এমনকি তাঁকে হত্যারও নানা ষড়যন্ত্র করা হয়।


তাঁর বর্ণনায়, ৭ম হিজরিতে হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মুহররম মাসে ইহুদিদের একটি চক্র লবিদ ইবনে আসম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মহানবী (স.)-এর ওপর জাদু করায়। লবিদ কৌশলে নবিজির এক ইহুদি গোলামের মাধ্যমে তাঁর ব্যবহৃত চিরুনি ও চুল সংগ্রহ করে। এরপর মোমের একটি পুতুল তৈরি করে তাতে ১১টি সুচ বিদ্ধ করা এবং একটি সুতায় কুফরি মন্ত্র পড়ে ১১টি গিঁট দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরে এসব সরঞ্জাম একটি কূপে পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়।


হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, ওই জাদুর প্রভাবে মহানবী (স.) শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর হজরত জিবরাইল (আ.) সূরা ফালাক ও সূরা নাস নিয়ে অবতীর্ণ হন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, উভয় সূরার আয়াতসংখ্যা ১১। ওহির মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবিকে জাদুর বিষয়টি অবহিত করেন এবং নির্দিষ্ট কূপ থেকে জাদুর সরঞ্জাম উদ্ধার করে সূরা ফালাক ও সূরা নাসের আয়াত পাঠ করে ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ দেন।


তিনি বলেন, মহানবী (স.) হজরত আলী (রা.)-এর মাধ্যমে জাদুর সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। এরপর সূরা ফালাক ও সূরা নাসের ১১টি আয়াত পর্যায়ক্রমে পাঠ করে ফুঁ দিলে জাদুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। পরে গোসল করে মহানবী (স.) নিজের শরীরকে অনেক হালকা ও সুস্থ অনুভব করার কথা জানান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার।


মহানবী (স.) সুস্থ হয়েছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্ত্রীগণ, কন্যা ফাতেমাতুজ জোহরা (রা.) এবং ইমাম হাসান ও হুসাইন (রা.) তাঁর কাছে উপস্থিত হন। সাহাবায়ে কেরামও নবিজির হুজরার কাছে এসে সমবেত হন। তখন মহানবী (স.) সাহাবিদের উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য দেন এবং সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, পৃথিবীতে কেউ চিরকাল থাকে না; একদিন সবাইকে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।


এরপর মহানবী (স.) মসজিদে নববিতে প্রবেশ করে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে ইমামতি করার নির্দেশ দেন। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর বর্ণনায়, মহানবী (স.)-এর জীবদ্দশায় আবু বকর (রা.)-কে ইমামতি করানোর ঘটনাকে তাঁর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.)-এর নেতৃত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।


মহানবী (স.)-কে সুস্থ দেখে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সাদকা করেন বলে তাঁর লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত আবু বকর (রা.) পাঁচ হাজার দিনার, হজরত উমর ফারুক (রা.) সাত হাজার দিনার, হজরত উসমান গনি (রা.) ১০ হাজার দিনার এবং হজরত আলী (রা.) তিন হাজার দিনার দান করেন। সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) খুশির সংবাদে ১০০ উট আল্লাহর রাস্তায় দান করেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, এসব ঘটনা থেকে মহানবী (স.)-এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের গভীর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়। নবিজির প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ছিল নিখাদ ও অতুলনীয়। তাঁরা তাঁর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধা করেননি।


হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, জীবনের সবকিছুর চেয়ে মহানবী (স.)-কে ভালোবাসতে হবে এবং তাঁর অনুসৃত পথে নিজেদের জীবন পরিচালিত করতে হবে। তাঁর মতে, নবিজির রোগমুক্তির দিনটি যদি আনন্দ ও শুকরিয়ার উপলক্ষ হয়, তাহলে এ দিনে মহান আল্লাহর কাছে যাবতীয় অকল্যাণ থেকে মুক্তি এবং সুস্থ, সুন্দর ও কল্যাণময় জীবনের জন্য দোয়া করা উচিত।


তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন সবাইকে যাবতীয় অকল্যাণ থেকে দূরে রাখেন এবং সুস্থ-সুন্দর জীবন দান করেন। আমিন।


লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতিব, সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সাবেক প্রিন্সিপাল, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক, হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16864
Page of