logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ধর্ম ২৫ জুন ২০২৬ ০৪:৫২ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

আশুরার রোজা: গুনাহ মাফ ও অসীম সওয়াবের এক মহিমান্বিত সুযোগ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৫ জুন ২০২৬ ০৪:৫২ অপরাহ্ন ধর্ম
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৫ জুন ২০২৬ ০৪:৫২ অপরাহ্ন
আশুরার রোজা: গুনাহ মাফ ও অসীম সওয়াবের এক মহিমান্বিত সুযোগ

পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখ, তথা আশুরার দিনের রোজা ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল বা ঐচ্ছিক ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। তবুও এর গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন।


হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা।” (মুসলিম)


তিনি আরও বলেন, আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “আশুরার দিনের রোজা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হয়।” (মুসলিম: ১১৬২)


হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহিলি যুগেও কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সে সময় এ রোজা রাখতেন। মদিনায় হিজরতের পরও তিনি নিজে রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। তবে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হয়ে যায়।


আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ইহুদিরাও আশুরার দিনকে গুরুত্ব দিত। এজন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ মহররম মিলিয়ে দুই দিন রোজা রাখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। (মুসলিম: ১১৩৪)


আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, আশুরার দিনে পরিবার-পরিজনের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করলে আল্লাহ তাআলা পুরো বছর রিজিকে বরকত দান করেন—এ মর্মে একটি হাদিস বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যদিও এ হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে অনেক গবেষক আলেম এটিকে আমলযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, মহররম মাসের রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে একাধিক সহিহ হাদিস রয়েছে। তাই আশুরার রোজা এবং এর সঙ্গে ৯ অথবা ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা রাখার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।


তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে আশুরার রোজার ফজিলত উপলব্ধি করে আমল করার তাওফিক দান করেন।


লেখক পরিচিতি:

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি; কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব; তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16170
Page of