সিলেটে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
সিলেটের জৈন্তাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি জসিম মিয়াকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে র্যাব-৯-এর সহযোগিতায় জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃত জসিম মিয়া জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল এলাকার আব্দুল মালিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল এলাকায় সারিঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই কিশোরী বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে জসিম মিয়া ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে অভিযুক্ত জসিমকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেন। পরবর্তীতে জসিমের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার অজুহাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।
মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান
ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার পর সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পালিয়ে যান জসিম। এরপর তার অবস্থান শনাক্ত করতে মাঠে নামে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ও র্যাব-৯-এর যৌথ দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে সিলেট নগরীর চণ্ডীপুল এলাকা থেকে র্যাব-৯-এর একটি চৌকস দল তাকে আটক করে। পরে তাকে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, আটক আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার কঠোর পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।