শায়েস্তাগঞ্জে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মবার্ষিকী উদযাপন
শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মবার্ষিকী-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় শায়েস্তাগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি সভাকক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
“শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর” এবং “দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বই প্রদর্শনী, বই নিয়ে আড্ডা, পাঠচক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শায়েস্তাগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত সেনেটারি অফিসার হাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শায়েস্তাগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন মামুনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শায়েস্তাগঞ্জ অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন মনসুর, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদুল হক বুলবুল, উপজেলা মডেল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ সৈয়দুর রহমান সাইদুর এবং এনজিও ‘পাশা’র চেয়ারম্যান সৈয়দ হুমায়ুন কবির।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আজিজুর রহমান, মাহফুজুর রহমান এনাম, হাফসা বেগম এবং উপজেলা মডেল প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফখর উদ্দিন শাকিলসহ অনেকে।
বক্তব্য শেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান পরিবেশন করেন পাবলিক লাইব্রেরির সদস্য ও পাঠক সিদরাতুল মুনতাহা এবং মো. সজিব।
বক্তারা বলেন, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত শায়েস্তাগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির নিজস্ব কোনো ভবন নেই। একটি ভাড়া করা দোকানকোঠায় দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সীমিত পরিসরে লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংকীর্ণ জায়গায় নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পাঠক ও সদস্যদের জন্য লাইব্রেরি চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব তহবিল থেকে লাইব্রেরির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়। তাই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি থেকে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ দিয়ে সেখানে একটি আধুনিক লাইব্রেরি নির্মাণের জোর দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য পাঠক এ লাইব্রেরিতে এসে ইতিহাস, বাংলা একাডেমির বই, গল্প-রচনা এবং জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা পাঠ করেন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাস পেলেও লাইব্রেরির উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, হুইপ মহোদয় এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন লাইব্রেরির সদস্যবৃন্দ।