শ্রমিকের অধিকার না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে, সংসদে-বাইরেও সরব থাকব — ডা. শফিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সংসদের ভিতরে-বাইরে আমাদের লড়াই চলবে।” আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলনের ১৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতি বছর নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন খুবই সীমিত। যদি এসব প্রতিশ্রুতির সামান্য অংশও বাস্তবায়ন হতো, তাহলে শ্রমিকদের এত দাবি-দাওয়া অবশিষ্ট থাকত না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে শ্রমিক শ্রেণিই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। তাদের প্রয়োজন, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, কিছু নেতা শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। ফলে যুগের পর যুগ নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। জামায়াতে ইসলামী সংঘাতের রাজনীতিতে নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায্যতা ও ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
বিদেশগামী শ্রমিকদের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। অথচ তারা সিন্ডিকেট, দালালচক্র ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যারা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান, তাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “গতকাল সংসদে আপনাদের পক্ষে কথা বলেছি। যতদিন সংসদে থাকব, আপনাদের জন্য লড়াই করে যাব। আর বাইরের লড়াইও চলবে ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক এমপি আ ন ম শামছুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্পও বাঁচবে।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। প্রকৃত ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে সবাই শ্রমিকদের কথা বললেও পরে তা ভুলে যায়।
নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের বড় ভূমিকা থাকলেও তারা এখনো অবহেলিত।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ বলেন, শ্রমিকরা বরাবরই বৈষম্যের শিকার। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ছাত্রসমাজও প্রয়োজনে মাঠে নামবে।