সিলেটি ভাষা-সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’ শুরু
সিলেটের হাজার বছরের ঐতিহ্য, ভাষা ও লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’। ‘হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি, কীনব্রীজ চাঁদনীঘাট ও সারদা হল প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের পর্দা উঠে।
পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান হোসেন চুন্নু।
বক্তারা বলেন, সিলেটের রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। মরমী সাধক হাছন রাজা, শাহ আব্দুল করিম ও রাধা রমনের মতো মনীষীদের মাধ্যমে এ অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। তারা বলেন, ছিলটি ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়েই নিজেদের শেকড় ও আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের আদি ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সমাজ মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সিলেটের মরমী সূফিবাদী ঐতিহ্যে লালিত ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো জরুরি। তারা আরও বলেন, হৃদয়ে ধারণ ও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সিলেটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ হিমাংশু বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আল মামুন বিন সালেহ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, সাবেক শিক্ষা অফিসার পুলিন রায় এবং প্রবাসী শিল্পী শাহ আলমসহ আরও অনেকে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এই উৎসবে সিলেটি ভাষা, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি ভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সিলেটি ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।