সিসিক নির্বাচন: জামায়াতের 'ভোট ব্যাংক' উত্থানে সতর্ক বিএনপি, কে পাচ্ছেন নগরীর টিকিট?
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই চায়ের কাপে ঝড় তুলছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকার পর আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির একঝাঁক মেয়র পদপ্রত্যাশী। নগরজুড়ে বড় বড় বিলবোর্ড, রঙিন পোস্টার আর চোখধাঁধানো ফেস্টুনের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছার আড়ালে মূলত নিজেদের ভোট ও দলের সমর্থন নিশ্চিতের কৌশলী প্রচারণায় মেতেছেন নেতারা।
মাঠে নেমেছেন বিএনপির ডজনখানেক প্রার্থী
সিলেট মহানগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি সংবলিত ব্যানারে ঢাকা। মেয়র পদের মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার নাম আলোচনায় আসছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
* আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি। যাকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকার সিসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সরাসরি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।
* রেজাউল হাসান কয়েস লোদী: মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক প্যানেল মেয়র। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর হওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি পুঁজি করতে চান।
* ইমদাদ হোসেন চৌধুরী: মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, যিনি সম্প্রতি ফেসবুক ও রাজপথে সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন।
* অন্যান্য হেভিওয়েটরা: মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, জেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমদ দৌলত এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম।
প্রশাসকের ‘ড্রেস রিহার্সেল’ ও সৌন্দর্য রক্ষার আহ্বান
সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তার নিয়োগকে দলের একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, "এটি একটি ড্রেস রিহার্সেল। নগরবাসীর সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখা এবং সমাধানের অভিজ্ঞতা নিতেই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।" তবে মজার বিষয় হলো, গত বৃহস্পতিবার সিসিকের জনসংযোগ শাখা থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে তিনি ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে নগরীতে যত্রতত্র বিলবোর্ড-ফেস্টুন না লাগাতে অনুরোধ করেছেন। প্রশাসক নিজেও মেয়র পদপ্রার্থী হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াত ফ্যাক্টর ও বিএনপির সতর্কতা
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির খন্দকার মুক্তাদীর জয়ী হলেও জামায়াত প্রার্থীর বিপুল ভোটপ্রাপ্তি (১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি) বিএনপিকে সতর্ক করে তুলেছে। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী যেখানে মাত্র ১১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন, সেখানে মাত্র ৭ বছরে তাদের ভোটের এই উত্থান আগামী সিসিক নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর বিএনপির এক নেতা জানান, "জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান মোকাবিলা করে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন, এমন যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকেই যেন কেন্দ্র মনোনয়ন দেয়।"
নির্বাচন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
সম্প্রতি সিলেট সফরকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না, তা সংসদে আলোচনার পর চূড়ান্ত হবে। এর পরেই নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে।
আশাবাদী প্রার্থীরা
মেয়র প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে নেই কেউ। বদরুজ্জামান সেলিম ১৯৯৫ সাল থেকে মনোনয়নের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে দলের ত্যাগী মূল্যায়ন আশা করছেন। অন্যদিকে, কয়েস লোদী তার দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হওয়ার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান।
সিলেট সিটি করপোরেশন যেন হাতছাড়া না হয়, সেজন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখন থেকেই যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন।