ইনানীর রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা; ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
কক্সবাজার :
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা পর্যটকেরা আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হন।
নিহত ১০ জনের পরিচয়
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।
নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত মেলিতা মেহেজাবিন আলভী ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছিলেন। মো. নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা, হস্তান্তরে বিলম্বের আশঙ্কা
অগ্নিকাণ্ডে মরদেহগুলো আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজারে প্রয়োজনীয় ডিএনএ পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে। এতে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে। স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়জনদের মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আহত ছয়জন
অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ছয়জন হলেন—চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান। রোববার সকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
রিসোর্টের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা
এ ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলা করেছে পুলিশ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রিসোর্টের মালিকপক্ষ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মর্মান্তিক এ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানিতে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।