জকিগঞ্জে ১,৫০০ টাকায় বিদ্যালয়ের পুরোনো মালামাল বিক্রি, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ওয়াজেদ আলী মজুমদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো মালামাল ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রি করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি স্পিকার, দুটি ফ্যান ও তিনটি মনিটর। মালামালগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বিক্রির সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সোনাসার বাজারের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে মালামালগুলো বিক্রি করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীন আহমদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় একটি কক্ষে পড়ে থাকা মালামাল বিক্রির সিদ্ধান্ত গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় নেওয়া হয়েছিল। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলেও জানান তিনি।
শাহীন আহমদ বলেন, মালামালগুলো দিনের বেলায় বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু ক্রেতার পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জুনেদ আহমদকে সেগুলো বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যায় ওই ব্যবসায়ী বিদ্যালয়ে এসে মালামাল নিয়ে যান।
ভাঙারি ব্যবসায়ী আখতার হোসেনও মালামাল কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ১ হাজার ৫০০ টাকায় মালামালগুলো কিনেছেন। সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ে গিয়ে সেগুলো নিয়ে আসেন এবং নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করেন।
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও কসকনকপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বলেন, কমিটির সভায় মালামাল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মালামালগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ায় সেগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, সভায় আলোচনা করে পুরোনো মালামাল বিক্রির বিষয়ে তিনিও সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে মালামাল বিক্রির সময় তাঁকে জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় নিয়ে অনেকে বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছেন। কেউ কেউ প্রকৃত তথ্য না জেনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়েও অতীতে অভিযোগ
বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া নিয়েও অতীতে অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এম এন জামান নাজমু সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা থেকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
যাচাই ছাড়া অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীন আহমদ মালামাল বিক্রির বিষয়ে যাচাই না করে অপপ্রচার না চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তবে মালামালগুলোর প্রকৃত মূল্য, বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো মূল্যায়ন বা দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং বিক্রির অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।