সবুজ স্বপ্নে নতুন ঠিকানা ‘বাগান বাড়ি এগ্রো নার্সারী’, নজর কাড়ছে দক্ষিণ সুরমায়
দক্ষিণ সুরমা (সিলেট) প্রতিনিধি :: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আধুনিক ও পরিকল্পিত কৃষির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে নিরাপদ পরিবেশ, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা। এমন বাস্তবতায় কৃষিপ্রেমীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের ভরাউটে গড়ে উঠেছে ‘বাগান বাড়ি এগ্রো নার্সারী’।
বিভিন্ন জাতের ফলদ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা উৎপাদন ও সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বৃক্ষপ্রেমীসহ স্থানীয় মানুষের নজর কেড়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে নার্সারিটির কার্যক্রম শুরু হয়।
বাগান বাড়ি এগ্রো নার্সারীর উদ্যোক্তা নিজাম আহমদ বলেন, শুধু গাছের চারা বিক্রি করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য নয়। কৃষি ও বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং বাড়ির আঙিনা, বাগান ও কৃষিজমিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারে উৎসাহিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। মানসম্মত চারা সরবরাহের পাশাপাশি ক্রেতাদের প্রয়োজন অনুযায়ী গাছ নির্বাচন, রোপণ ও পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগও থাকবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হলে এ ধরনের নার্সারি স্থানীয়ভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নত জাতের চারা উৎপাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার কৃষি ও সবুজায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল বলেন, আগামী প্রজন্মের বসবাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবুজ প্রকৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। উদ্যোক্তা নিজাম আহমদের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গোটা এলাকার বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যাকারীদের জন্য নতুন বার্তা দেবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি ও বৃক্ষরোপণের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে ‘বাগান বাড়ি এগ্রো নার্সারী’ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুরমায় কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও বৃক্ষরোপণভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।