ফিলিস্তিনের পাশে বাংলাদেশ, ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণে গভীর উদ্বেগ
মো. জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স প্রতিনিধি:
ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য ও বৈধ অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ই-১ (E1) এলাকায় ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের পরিপন্থী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস. ওয়াই. রমাদান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে গাজার পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবিতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট
বৈঠকের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস. ওয়াই. রমাদান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
জবাবে হুমায়ুন কবির ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার ও ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট এবং ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে থাকবে।
ই-১ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণে ঢাকার আপত্তি
বৈঠকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ই-১ এলাকায় ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে একই দিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে ই-১ এলাকায় ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং কার্যকর দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাংলাদেশ ইসরায়েলকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সব ধরনের বসতি কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা
সাক্ষাতে গাজার চলমান পরিস্থিতি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব ও দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনের ঢাকাস্থ দূতাবাসও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে আসছে।
এদিকে ই-১ এলাকায় ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান ঘোষণার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ঢাকার নীতিগত অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো।