ধর্মপাশায় পরিত্যক্ত কালিজানা ব্রিজ: ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মনাই নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে কালিজানা ব্রিজ। সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের অভাবে ব্রিজটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে মনাই নদীর ওপর কালিজানা ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ব্রিজটির রেলিং ভেঙে যায়। পাশাপাশি বন্যার পানির প্রবল চাপে ব্রিজটি একদিকে হেলে পড়ে। দুই পাশের মাটিও সরে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি।
বর্ষা মৌসুমে ব্রিজটির আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আর শুকনো মৌসুমে কোথাও কোথাও বাঁশের মই বা সাঁকোর মাধ্যমে স্থানীয়রা ব্রিজটি পারাপারের চেষ্টা করেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, গাবী, সরিষাম, মির্জাপুর, কাকিয়াম, শিংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কালিজানা ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজটি ব্যবহারযোগ্য থাকলে এসব গ্রামের মানুষ অল্প সময়ে উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত সময় ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দ্রুত ভেঙে সেখানে একটি নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি দুই পাশের সংযোগ সড়ক সংস্কার করা হোক।
এর আগে ২০২৫ সালে কালিজানা ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধনও করেন। তখন উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন জানিয়েছিলেন, ব্রিজটি ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু মেরামত প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং এটি পুনর্নির্মাণের আশা রয়েছে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহাবউদ্দিন বলেন, “আমরা এই ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। অচিরেই ব্রিজের কাজ শুরু হবে আশা।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কালিজানা ব্রিজের বর্তমান দুরবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন ব্রিজ নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে।