দক্ষিণ সুরমায় অনলাইন জুয়ার আসর, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৪
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৯, সিলেট সদর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শাহ সিকান্দর এলাকার মৃত আমিনউল্লার ছেলে মো. জলিল উদ্দিন (৩৮), হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের মো. মিয়া হোসেনের ছেলে মো. সামাইন (৩০), ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা এলাকার মৃত অখিল মিয়ার ছেলে মো. নাইম মিয়া (৩৩) এবং হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মনতৈল উত্তরপাড়া এলাকার মো. আসমত আলীর ছেলে মো. শাহিন মিয়া (৩৫)।
র্যাব জানায়, ১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে র্যাব-৯, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সূত্রে জানতে পারে, লালাবাজারের মাহতাজ ভেরাইটিজ স্টোর নামের একটি চায়ের দোকানের ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইনে জুয়া খেলছেন।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটের দিকে র্যাবের আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইনে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করার কথা জানান।
র্যাবের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা মোবাইল ফোন যাচাই করে অনলাইনে জুয়া খেলার বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইনে জুয়া খেলার কথা জানিয়েছেন।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ও জব্দ করা আলামত সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।