সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই এই শহরের বাসিন্দা’: সিসিক প্রশাস
‘আমরা বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই শহরে বসবাস করি। আমরা সবাই এই শহরের মানুষ। এখানে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই।’—সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরের চালিবন্দরে শ্রী শ্রী বিষহরি মন্দিরে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এই শহরের ভালো-মন্দ সব কিছুরই আমরা অংশীদার। অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই আমরা সব কাজ সম্পন্ন করি।’ তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন সকলের প্রতিষ্ঠান। প্রশাসক বা মেয়র হিসেবে নগরের সব ধর্ম, শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য কাজ করা তাঁর দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিগত বা সম্প্রদায়গত কোনো বিভেদ নেই। এই ক্ষেত্রে কোনো বিভেদ এলে তা কঠোরহস্তে প্রতিহত করা হবে।’ নগরের সব মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
একটি আধুনিক, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগর একা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গড়া সম্ভব নয়।’ নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিটি করপোরেশনের বর্তমান কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আগে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ২৭টি। বর্তমানে তা বেড়ে ৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে কাজের পরিধির পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও অনেক বেড়েছে। সীমিত নিজস্ব আয় ও সম্পদের মধ্যেই নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চালিবন্দর বিষহরি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শশাঙ্খ শেখর পালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাশ এবং চালিবন্দর বিষহরি মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মদন মোহন কর্মকারসহ সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা নগরের সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।