বৈষম্যের অভিযোগে বানিয়াচংয়ে ফুঁসে উঠেছেন গ্যানিংগঞ্জের সিএনজি শ্রমিকরা
স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রুট ও সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র হয়ে উঠেছে। বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্ট্যান্ডের মালিক ও শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডে মালিক ও শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা।
তাদের অভিযোগ, সামান্য কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় হবিগঞ্জ স্ট্যান্ডের লোকজন গ্যানিংগঞ্জ বাজার স্ট্যান্ডের শ্রমিকদের সিরিয়াল বন্ধ করে দেন। এর ফলে একদিকে শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. সেলিম আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, গ্যানিংগঞ্জ বাজার স্ট্যান্ডের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। একটি রুটে বিরোধ দেখা দিলে তার প্রভাব অন্য রুটের নিরীহ শ্রমিকদের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের জীবিকা অনিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়ছে।
বক্তারা জানান, কিছুদিন আগে আজমিরীগঞ্জ ও শিবপাশার সিএনজি শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বানিয়াচংয়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিবপাশার নেতৃবৃন্দ ওই সালিশে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে হবিগঞ্জ স্ট্যান্ডের সঙ্গে বিরোধের জেরে বানিয়াচংয়ের শ্রমিকদের সিরিয়াল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য, সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় চার শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনের আয়-রোজগারের ওপর নির্ভরশীল এসব শ্রমিকের পরিবারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিনের বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এক পক্ষের বিরোধের কারণে অন্য পক্ষের শ্রমিকদের ওপর শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, বিরোধের স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। তাই কোনো পক্ষের প্রতি বৈষম্য না করে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের দ্রুত অবসান করা জরুরি।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন আবু সুফিয়ান, মো. নাজমুল হোসেন, কবির আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, ছোটন আহমেদ, কালাশাহ, আবু মিয়া, সবুজ মিয়া, জিতু মিয়াসহ মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।