জৈন্তাপুরে বিজিবির গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি নিহত
জৈন্তাপুর ( সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি ডাবল কেবিন পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে এক ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটে উপজেলার ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নের সারিঘাট এলাকার আব্দুল শহীদ স্টোরের সামনে তামাবিল-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের আখালিয়া থেকে তামাবিলের দিকে যাচ্ছিল ৪৮ বিজিবির একটি ডাবল কেবিন পিকআপ (নম্বর- সিলেট ঠ-১১-০০৩২)। একই সময়ে সারিঘাট থেকে দরবস্তের দিকে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন সাদ্দাম হোসেন। মহাসড়কে ওঠার সময় বিজিবির পিকআপের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর তিনি পিকআপের চাকার নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাদ্দাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাদ্দাম হোসেন রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার জামালপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে। তিনি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি সিলেট অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতেন।
জানা গেছে, সাদ্দাম হোসেন জৈন্তাপুর বুথে কোম্পানির টাকা জমা দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা দরবস্তের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৪৮ বিজিবির একটি টিম নিয়মিত সীমান্ত টহল ও দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সিলেটের আখালিয়া থেকে তামাবিলের দিকে যাচ্ছিল।
খবর পেয়ে তামাবিল হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছালে তাঁদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার আবির হোসেন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তামাবিল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তামাবিল-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কানাইঘাটে ‘জুলাই জাগরণে’ জনতার ঢল, উচ্ছ্বসিত রাশেল উল আলম
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিলেটের কানাইঘাটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ‘জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রা ও পথসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী রাশেল উল আলম। কর্মসূচি শেষে কানাইঘাটবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় কানাইঘাটে ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার কারণে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কানাইঘাট উত্তর বাজার এলাকায় কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেটের হবিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার পর কানাইঘাটের কর্মসূচি ঘিরে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পদযাত্রা ও পথসভা সম্পন্ন হয়। বিপুল জনসমাগম এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হওয়ায় কানাইঘাটবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান রাশেল উল আলম।
পথসভা চলাকালে এবং কর্মসূচি শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী রাশেল উল আলম কানাইঘাটের মানুষের ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কানাইঘাটবাসীর এই আন্তরিকতা ও সহযোগিতা তাঁকে গভীরভাবে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ করেছে।
রাশেল উল আলম বলেন, তাঁর শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কানাইঘাটে কেটেছে। এ কারণে উপজেলার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি কানাইঘাটকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে মনে করেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও কানাইঘাটবাসীর আন্তরিক সমর্থন ও স্নেহ তাঁকে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ করেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। সব মানুষ একই রাজনৈতিক দলের সমর্থক হবেন—এমনটি প্রত্যাশিত নয়। তবে তাঁর বিশ্বাস, জুলাইয়ের চেতনা এবং নতুন ধারার রাজনীতির প্রতি মানুষের ইতিবাচক প্রত্যাশা ও সমর্থন ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
কানাইঘাটবাসীর অব্যাহত ভালোবাসা, সহযোগিতা ও শুভকামনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাশেল উল আলম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও আস্থার ভিত্তিতে দেশ গঠনে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।