সিলেটে ‘সিরিয়াল’ বিরোধে প্রাণ গেল সিএনজিচালক শাহাবউদ্দিনের
কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে শাহাব উদ্দিন (৩২) নামে এক চালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের সামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের খবর পাওয়া গেছে।
নিহত শাহাব উদ্দিন সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মৃত মুদরিছ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে কানাইঘাটের সুরইঘাট বাজারের সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে গাড়ির সিরিয়াল ও যাত্রী নেওয়া নিয়ে শাহাব উদ্দিনের ভাই এনাম উদ্দিনের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এনাম উদ্দিন আহত হন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় মুরব্বিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার সকালে শাহাব উদ্দিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সামতলা এলাকায় হামলার শিকার হন। আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন। হামলাকারীরা পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনজন গ্রেপ্তার, আরও দুজন আটক
ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পরবর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জাকারিয়া, তাঁর ভাই ইয়াহিয়া ও শাহরিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুজনকে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে অটোরিকশার সিরিয়াল নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, পূর্বের বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।