logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ০২ জুলাই ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সুরমার ভয়াল ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ, অস্তিত্ব সংকটে ১২১ বছরের সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০২ জুলাই ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০২ জুলাই ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ন
সুরমার ভয়াল ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ, অস্তিত্ব সংকটে ১২১ বছরের সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সুরমা নদীর ভয়াল ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে জনপদ। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে ভাঙন। এতে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে প্রতিনিয়ত ধসে পড়ছে নদীতীর। ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, অসংখ্য গাছপালা এবং নদীতীরবর্তী এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের।


সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি নদীর একেবারে কিনারায় অবস্থান করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর রক্ষা করা না হলে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।


বিদ্যালয়টিতে দুধরচক, শিবেরচক, হরাইচক ও সুরানন্দপুরসহ আশপাশের চারটি গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।


মানিকপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মাশুক আহমদ, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. সুহেল আহমেদ এবং স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল, মাহতাব উদ্দিন, কালাম উদ্দিন, আপ্তাব উদ্দিন, তাজেল আহমেদ ও অলিউর রহমান জানান, গত কয়েক বছরে অন্তত তিনবার ভয়াবহ নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। প্রতিবারই বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও নানা সহায়-সম্বল নদীগর্ভে হারিয়েছেন। এবারও একইভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বলটুকুও হারাবে। এমনকি ঘরবাড়ি স্থানান্তরের জন্য নিরাপদ জায়গাও আর অবশিষ্ট থাকবে না।


তাদের ভাষ্য, নদীভাঙনের কারণে পাঁচ থেকে সাতটি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং সামগ্রিক জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন নদী যেভাবে বসতিগুলোর দিকে এগিয়ে আসছে, তাতে মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেক পরিবার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে—কখন নদী এসে বসতভিটা গ্রাস করে, সেই শঙ্কায়।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও স্থায়ী কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিবছরই একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।


ভুক্তভোগীরা জানান, তারা কোনো ত্রাণ চান না; সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই তাদের একমাত্র দাবি। তাদের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে কয়েকটি গ্রাম, শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16250
Page of