সালিশ বিরোধে হত্যাকাণ্ড: র্যাব-৯ এর অভিযানে কামাল মিয়া গ্রেফতার
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সালিশ বিচারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ‘ইরাজ মিয়া’ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০২ নম্বর পলাতক আসামি সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব-৯ জানায়, এলিট ফোর্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা মাদক, হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম ইরাজ মিয়া হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানাধীন ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় বালিগাঁও এলাকায় ডাঃ তরিকুল ইসলাম জেমস ও তার ভাইয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে জমি চাষাবাদ না করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও তা অমান্য করার অভিযোগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে অষ্টগ্রাম থানাধীন আদমপুর বাজারে যাওয়ার পথে ভিকটিমকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয় এবং গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে লাখাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ আনুমানিক দুপুর ২টা ১০ মিনিটে র্যাব-৯, সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং সিপিএসসি, সিলেটের যৌথ আভিযানিক দল সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন পাঠানটুলা পয়েন্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ০২ নম্বর পলাতক আসামি কামাল মিয়া (৪৭), পিতা মৃত জয়েদ আলী, সাং বালিগাঁও, থানা অষ্টগ্রাম, জেলা কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতার করে। র্যাব জানায়, এর আগে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলার আরও ০৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৯ আরও জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”