logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৯ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

স্বাধীনতা দিবসে সিলেটে ডিআইজি কার্যালয়ের নানা কর্মসূচি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৯ অপরাহ্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
স্বাধীনতা দিবসে সিলেটে ডিআইজি কার্যালয়ের নানা কর্মসূচি

সিলেট, ২৬ মার্চ ২০২৬: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে। দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, সাহসিকতা ও অদম্য চেতনার প্রতীক হিসেবে মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।


১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার অগ্নিঝরা আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র—বাংলাদেশ। এই ঐতিহাসিক দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক মহিমান্বিত মাইলফলক হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে আছে।


মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও এদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে, যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী “অপারেশন সার্চলাইট”-এর নামে ঢাকাজুড়ে নৃশংস গণহত্যা শুরু করে, তখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন। গভীর রাতে ট্যাংক, মর্টার, ভারী মেশিনগান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে সুসজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চারদিক থেকে পুলিশ লাইন্স ঘিরে ফেললেও বুকভরা সাহস, অটুট দেশপ্রেম এবং মৃত্যুকে তুচ্ছ করার অগ্নিঝরা মানসিকতা নিয়ে বাঙালি পুলিশ সদস্যরা হাতে থাকা সীমিত .৩০৩ রাইফেলসহ স্বল্প অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই গড়ে তোলেন দুর্ধর্ষ সশস্ত্র প্রতিরোধ।


গোলার পর গোলা, আগুনের লেলিহান শিখা, চারদিকে মৃত্যু আর ধ্বংসের বিভীষিকার মধ্যেও তারা পিছু হটেননি; বরং সম্মুখসমরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা করেন। রাজারবাগের সেই রক্তাক্ত প্রান্তর থেকে যে গর্জন উঠেছিল, তা সারা বাংলায় ছড়িয়ে দেয় প্রতিরোধের আগুন এবং জাগিয়ে তোলে স্বাধীনতার অদম্য স্পৃহা। অনেকেই সেখানেই শহীদ হন, অনেকে রক্তাক্ত শরীরে যুদ্ধ চালিয়ে যান, কিন্তু কেউ সহজে আত্মসমর্পণ করেননি। তাঁদের এই বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও অগ্নিস্নাত প্রতিরোধ জাতিকে শিখিয়ে দেয়—লড়াই ছাড়া মুক্তি নেই, প্রতিরোধই স্বাধীনতার একমাত্র পথ।


দিবসটি উপলক্ষে সিলেট রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি জনাব মোঃ মুশফেকুর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা সূর্যোদয়ের প্রারম্ভে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করা হয়।


পরবর্তীতে তিনি সিলেট জেলা পুলিশ লাইন্সে অবস্থিত “স্মৃতি চিরন্তন” স্মৃতিস্তম্ভ এবং “স্মৃতি ৭১” গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ডিআইজি মহোদয় ও উপস্থিত কর্মকর্তাগণ শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।


এরপর সকাল ৯টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। ডিআইজি মহোদয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মনোবলকে উচ্চ প্রশংসায় ভূষিত করেন। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


উক্ত কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, পুলিশ সুপার সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি, ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি এএন্ডএফ, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, সিলেট; জনাব মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, পিপিএম, পুলিশ সুপার এডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, সিলেট; জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী পুলিশ সুপার অপারেশন্স অ্যান্ড ট্রাফিক, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, সিলেট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি, সিলেট। এছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ এবং সিলেটস্থ সকল পুলিশ ইউনিটের কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার চেতনা, দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে একটি নিরাপদ, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত ভূমিকা পালনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14368
Page of