logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
হাইকোর্টের আদেশ ও বাবার অসিয়ত অনুযায়ী সম্পত্তি ভোগদখলে রয়েছেন মা—দাবি পরিবারের; বিচারাধীন মামলা ও ভাড়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

পল্লবী সেন্টার নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলের দাবি—‘নেই আইনি জটিলতা’

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন
পল্লবী সেন্টার নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলের দাবি—‘নেই আইনি জটিলতা’

সিলেট :

সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার পল্লবী সেন্টারের মালিকানা, ভোগদখল ও ভাড়া আদায় নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় তাঁর মা বুলবুল নাহার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা দাবি করেন, পল্লবী সেন্টার নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখলে কোনো বাধা নেই। তবে সম্পত্তি নিয়ে একটি স্বত্ব মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাঁর বাবা এনামুল ইসলাম চৌধুরীর অসিয়ত এবং উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাঁর মা বুলবুল নাহার চৌধুরী পল্লবী সেন্টার ভোগদখল করছেন। সেখানে নিয়মিত অনুষ্ঠানও হচ্ছে এবং সেন্টারটি ভাড়া নিতে কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন তিনি।


সম্প্রতি তাঁর ভাই কানাডাপ্রবাসী মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও বোন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরীর পক্ষ থেকে পৈতৃক সম্পত্তি দখল, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মুমিনুল। তাঁর ভাষ্য, গত ২০ অক্টোবর উত্থাপিত অভিযোগগুলো গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।


২০১০ সালের দলিল ও স্বত্ব মামলা


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরী ২০১০ সালের ২৮ নভেম্বর ৭১/২০১০ নম্বরের একটি নিবন্ধিত দলিল সম্পাদন করেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ওই দলিলে তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী বুলবুল নাহার চৌধুরীকে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিন ভাইবোনের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের রূপরেখাও উল্লেখ করা হয়।


পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে এনামুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানরা ওই দলিল সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে ৩৬২৪/২০২২ নম্বরের একটি বণ্টন দলিল সম্পাদন করা হয়। ২০১০ সালের মূল দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের পর বুলবুল নাহার চৌধুরী ২০২২ সালের বণ্টন দলিল বাতিল চেয়ে স্বত্ব মামলা নং-৮৭/২০২৫ দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।


হাইকোর্টের তিন আদেশের কথা উল্লেখ


সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী উচ্চ আদালতের তিনটি দেওয়ানি রিভিশনের আদেশের কথা উল্লেখ করেন।


তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিভিল রিভিশন নং-৩৫৬৮/২০২৫-এ ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে তাঁর মায়ের পক্ষে দখলের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়। সিভিল রিভিশন নং-৪৭৩৮/২০২৫-এ একই বছরের ১২ নভেম্বর ৩৬২৪/২০২২ নম্বরের বিতর্কিত বণ্টন দলিলের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয় বলে তিনি জানান।


এ ছাড়া সিভিল রিভিশন নং-৫৩০৯/২০২৫-এ ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মূল মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্টদের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।


মুমিনুলের অভিযোগ, এসব আদেশের পরও এহসানুল ও তাজিন নোটারির মাধ্যমে সাতজনের নামে আমমোক্তারনামা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এ পদক্ষেপ আদালতের আদেশের পরিপন্থী। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের আদেশের মূল নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


ভাড়া ও ব্যাংক হিসাব নিয়ে বক্তব্য


পল্লবী সেন্টারের ভাড়া আদায় ও বণ্টন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শরিয়াহ আইন অনুযায়ী এহসানুল ইসলামকে নিয়মিত ভাড়ার অংশ দেওয়া হতো। মুমিনুলের দাবি, ২০২৬ সালের ৭ মে স্বত্ব মামলায় রিসিভার নিয়োগের আবেদনে এহসানুল নিজেই তাঁর আইএফআইসি ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।


সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, করোনাকালে এহসানুল ও তাজিন বিদেশে অবস্থান করায় সবার সম্মতিতে পল্লবী সেন্টারের ভাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের সিলেট শাখায় বুলবুল নাহার চৌধুরীর হিসাবে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তিন ভাইবোনের স্বাক্ষরযুক্ত একটি অনুমতিপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তাঁরা।


মুমিনুলের বক্তব্য, এহসানুল ২০২১ সালে দেশে অবস্থানকালে কিংবা পরবর্তী সময়ে ওই অনুমতিপত্রকে জাল বলে দাবি করেননি। এমনকি ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঠানো উকিল নোটিশেও এ বিষয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সম্পত্তি থেকে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।


১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা পিবিআইয়ে তদন্তাধীন


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এহসানুল ও তাজিন আব্দুর কাইয়ুম এবং হাবিবুর রহমান শিবলী নামের দুই ব্যক্তিকে নোটারাইজড আমমোক্তারনামার মাধ্যমে সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুলবুল নাহার চৌধুরী ভাড়ার আয়ের অংশ দেওয়া বন্ধ করেন বলে তাঁদের বক্তব্য।


এরপর পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘ ৪৮ বছরের পুরোনো ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানাসংশ্লিষ্ট সিআর মামলা নং-৯৪৭/২০২৬ দায়ের করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে বলে তাঁরা জানান।


এ ছাড়া প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগকে মিথ্যা ও মনগড়া দাবি করে মুমিনুল বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে মোবাইল ফোনের কললগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।


‘বাবার অসিয়ত রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাব’


লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাঁর ভাই ও বোন বাবার সম্পাদিত দলিল এবং তাঁদের মায়ের ভোগদখলের অধিকারকে অস্বীকার করছেন। একই সঙ্গে তাঁরা উচ্চ আদালতের আদেশের প্রতিও যথাযথ সম্মান দেখাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।


মুমিনুল বলেন, বাবার অসিয়ত রক্ষা এবং পৈতৃক সম্পত্তি সংরক্ষণে তিনি সর্বোচ্চ আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, আইনগতভাবে উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রাপ্য অংশ নির্ধারিত হলে সংশ্লিষ্টরা তাঁদের ন্যায্য সম্পত্তি পাবেন।


‘জীবিত থাকতে পল্লবী সেন্টার বিক্রি বা দখল করতে দেব না’


সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে বুলবুল নাহার চৌধুরী বলেন, পল্লবী সেন্টার তাঁর স্বামীর সম্পত্তি এবং তিনি জীবিত থাকতে কাউকে এটি দখল কিংবা বিক্রি করতে দেবেন না। তাঁর স্বামীর সিদ্ধান্ত ছিল, সম্পত্তিটি বিক্রি করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


বুলবুল নাহার বলেন, পল্লবী সেন্টারের কোনো ক্ষতি তিনি হতে দেবেন না। সম্পত্তিটি দখল বা বিক্রির চেষ্টা হলে তাঁকে আগে লাশ হতে হবে—এমন আবেগঘন বক্তব্যও দেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে বুলবুল নাহার চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।


উল্লেখ্য, পল্লবী সেন্টারের মালিকানা, বণ্টন দলিল, ভাড়া আদায় ও জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে এবং স্বত্ব মামলাটি বিচারাধীন। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/18314
Page of