শান্তিগঞ্জে ২০ মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন, সম্পন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও নির্ধারিত স্থানে আনন্দ, আবেগ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
এ বছর শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২২টি সার্বজনীন পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বাকি দুটি মণ্ডপে স্থায়ী প্রতিমা থাকায় সেখানে বিসর্জনের প্রয়োজন হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা।
বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় দেবী দুর্গার বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে দুপুর থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের তেঘরিয়া দুর্গামন্দিরের প্রতিমা বিকেল ২টার দিকে সদরপুর নদীর পাড়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে সদরপুর অষ্টগ্রাম পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া মহাসিং নদীর ডাবর এলাকা ও নাইন্দা নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সদরপুর নদী ও ডাবর এলাকার মহাসিং নদীর দুই পাড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটে। আনন্দ-বেদনা মিশ্রিত আবহে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা পরিত্যাগ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলাই বিজয়া দশমীর অন্যতম শিক্ষা। পাশাপাশি এ উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা বহন করে।
প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা জানান, এ বছর উপজেলায় ২২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি মণ্ডপের প্রতিমা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটি মণ্ডপ স্থায়ী হওয়ায় সেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজার সূচনা থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।