কানাইঘাটে মোবাইল কোর্টের ভিডিও ধারণে বাধার অভিযোগ, ইউএনওর সিএর বিরুদ্ধে সাংবাদিকের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার দাবি
কানাইঘাট থেকে ইকবাল বাহার: সিলেটের কানাইঘাট বাজারে ফার্মেসিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন দৈনিক সচিত্র সিলেটের কানাইঘাট প্রতিনিধি জাকির আহমদ সাজেদ। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সিএ আব্দুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
জাকির আহমদ সাজেদের অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভিডিও ধারণ করার সময় আব্দুল ওয়াহিদ তাঁকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁর দিকে তেড়ে এসে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ঘটনাস্থলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকের আরও অভিযোগ, এর আগেও আব্দুল ওয়াহিদের সঙ্গে তাঁর একই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আব্দুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারমূলক আচরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার পর সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁদের মতে, জনস্বার্থে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল ওয়াহিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে জানান সাংবাদিক জাকির আহমদ সাজেদ।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ইউএনও জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।