জকিগঞ্জে রাস্তার বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক, প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের অভিযোগ আনন্দপুরবাসীর
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের একটি রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের স্থান ও বরাদ্দের অর্থ ব্যয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানে কাজ না করে অন্য এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের দাবিতে গত ৫ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধনও করেন তাঁরা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোশাররফ হোসেন। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আনন্দপুর গ্রামের সাহেদের বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে ককাই মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তা পর্যন্ত প্রায় আট ফুট প্রশস্ত সড়কটি ইটসলিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রস্তাব দেন ইউপি সদস্য শিহাব উদ্দিন। গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের সভায় প্রকল্পটি ১২ নম্বর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু পরে ওই রাস্তার পরিবর্তে অন্য এলাকায় কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পের রাস্তার নাম পরিবর্তন করে অন্য একটি রাস্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়নকাজ পাওয়ার কথা থাকলেও আনন্দপুরের বাসিন্দারা বঞ্চিত হয়েছেন। প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের কারণ এবং এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ মে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় গঙ্গাজল আলিফ সেন্টারের সামনে যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ওই অর্থ দিয়ে সহিদাবাদ এলাকায় কবির আহমদের বাড়ির সামনে ইটসলিংয়ের কাজ করা হয়। এ ছাড়া কবির আহমদের বাড়ি থেকে কুশিয়ারা নদীর ডাইক পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়নের কথা থাকলেও কাজটি অন্যদিকে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ির দিকে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আনন্দপুরের বাসিন্দারা জানান, প্রস্তাবিত সড়কটি দিয়ে আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মসজিদে যাতায়াত করেন শিক্ষার্থীসহ এলাকার বহু মানুষ। রাস্তাটি উন্নত হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। তাঁদের অভিযোগ, গত ১০ বছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নকাজে আনন্দপুর গ্রাম উপেক্ষিত থেকেছে। বিজিসিসি সভাতেও গ্রামের নামে কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আনন্দপুরবাসীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। গঙ্গাজল আলিফ সেন্টারের সামনে যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দের অর্থ সহিদাবাদ এলাকায় ব্যয় করা হয়েছে। সেখানে বাস্তবায়িত কাজের স্থান থেকেও কুশিয়ারা নদীর ডাইকে ওঠার সুযোগ রয়েছে। জনসাধারণের সুবিধা ও অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই কাজটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আনন্দপুরে গত ১০ বছরে কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি—এমন অভিযোগও নাকচ করেন চেয়ারম্যান। তাঁর ভাষ্য, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকার উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের সভায় ইউপি সদস্য মো. শিহাব উদ্দিন ও আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না। অহেতুক অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্যও তিনি অনুরোধ জানান।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তদন্ত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। তবে এখনো প্রতিবেদন জমা দেননি তিনি। মোশাররফ হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমি তদন্ত করেছি। রিপোর্ট এখনো দিইনি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন, আগামী বরাদ্দ থেকে আনন্দপুরের জন্য রাখা হবে।”
প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন, বরাদ্দের অর্থ ব্যয় এবং আনন্দপুরের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা না হওয়ায় বিতর্কের নিষ্পত্তি হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদিত নথি, সভার কার্যবিবরণী ও বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।