গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বদরুল আলম (৪০) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাদেক হোসেন নামে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯টি গরু লুটের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম এলাকার একটি দীঘি ও মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুল আলম হাদারপার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি দুই ছেলের জনক।
নিহতের সঙ্গে থাকা সাদেক হোসেনের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে ব্যবসায়িক কাজে তাঁরা মোটরসাইকেলযোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে যান। তাঁদের সঙ্গে নগদ ৩০ লাখ টাকা ছিল। পরে ব্যবসায়িক কাজ শেষে ২৯টি গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোরাগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁদের সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বদরুল আলম বাধা দিলে তাঁকে ও সাদেক হোসেনকে দা, ছোরা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে বদরুল আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদেক হোসেন প্রাণে বেঁচে যান বলে জানা গেছে। তবে হামলায় তাঁর আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাদেক হোসেনের অভিযোগে হামলার সঙ্গে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের আগে অভিযোগে উল্লিখিত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়লের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ওসি জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বদরুল আলমের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া টাকা ও গরু উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।