গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে অভিযোগ অস্বীকার, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এম. আলীর
সিলেট : সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের সতর টেকারবাড়ি গ্রামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ‘দি রেইনবো একাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষক এম. আলী। তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মনগড়া দাবি করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে এম. আলী বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নাম জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে কোনো বক্তব্য প্রচার করা উচিত নয়।
গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে এম. আলী বলেন, তদন্তের স্বার্থে আইনগত যেকোনো সহযোগিতা দিতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা মনগড়া বক্তব্যের মাধ্যমে প্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান।
এম. আলী আরও বলেন, তিনি কোনো প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত বিরোধে জড়াতে চান না; বরং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দেখতে চান।
এম. আলী ‘দি রেইনবো একাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সিলেট সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন, বর্তমান চেয়ারম্যান কে এম রফিকুজ্জামান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী, সিনিয়র সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন, ইউপি সদস্য সুরুজ আলী ও মবশশির আলী, সাবেক ইউপি সদস্য রফিক মিয়া, শিক্ষক সাবাজ মিয়া, স্থানীয় মুরব্বি সাবুল মিয়া, সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক দুলাল রেজাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এম. আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল জানা গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।