চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
আইন আদালত ০৫ অক্টোবর ২০২৬
০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
গোয়াইনঘাটে দায়িত্বের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পুলিশি তৎপরতার চিত্র, আলোচনায় ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট। পাহাড়, নদী, সীমান্ত ও পর্যটনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের জন্য সবসময়ই একটি বড় দায়িত্ব। বিশেষ করে মাদক, চোরাচালান ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং দক্ষ নেতৃত্ব।
এই বাস্তবতার মধ্যেই গত ৩ জুলাই ২০২৬ রাতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. ওমর ফারুক মোড়ল। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি থানাকে জনবান্ধব ও দালালমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের ধারাবাহিক কার্যক্রমের একটি পরিসংখ্যানও সামনে এসেছে। ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ দিনে বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেছে থানা সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে মাদক মামলায় ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানায় ৬১ জন, জিআর সাজা পরোয়ানায় ১৩ জন, সিআর পরোয়ানায় ৪০ জন, সিআর সাজা পরোয়ানায় ১১ জন, নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ৯ জন রয়েছেন।
একই সময়ে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য তৎপরতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের মাদকসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দের তথ্য জানানো হয়।
ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়লের দায়িত্বকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি আসে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই। জুলাই ২০২৬ সালের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মামলা ও পরোয়ানা নিষ্পত্তি, নিয়মিত মামলায় আসামি গ্রেপ্তার এবং মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত করা হয়। ৪ আগস্ট সিলেট জেলা পুলিশ কল্যাণ সভায় তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
এই অর্জনের পর তাঁর বক্তব্যেও উঠে এসেছে জনসেবার বিষয়টি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি গোয়াইনঘাট থানাকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার এবং অসহায়, দুস্থ ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন।
তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা এবং জনবান্ধব ও দালালমুক্ত থানা গড়ার প্রত্যয় প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি, নিয়মিত টহল ও ধারাবাহিক অভিযানের তথ্যও উঠে এসেছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার কর্মদক্ষতার মূল্যায়নে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা কিংবা উদ্ধার হওয়া পণ্যের হিসাবই শেষ কথা নয়। মানুষের নিরাপত্তা, পুলিশের প্রতি আস্থা, আইনি সেবা পাওয়ার সুযোগ এবং আইন প্রয়োগে পেশাদারিত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকেই গোয়াইনঘাট থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়লের কার্যক্রমের দিকে নজর পড়ছে।
তবে কোনো কর্মকর্তার কর্মজীবনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন একটি পুরস্কার বা কয়েক মাসের কার্যক্রম দিয়ে করা সম্ভব নয়। ধারাবাহিকতা, পেশাদারিত্ব, আইনানুগ সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণই দীর্ঘমেয়াদে একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত পরিচয় তৈরি করে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য বলছে, গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়লের নেতৃত্বে থানার আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে মাদক ও চোরাচালান দমন, আসামি গ্রেপ্তার, পরোয়ানা নিষ্পত্তি এবং জনবান্ধব পুলিশিং বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দায়িত্বের প্রথম মাসেই পাওয়া সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি সেই কর্মতৎপরতার একটি আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন।
সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটের মানুষের নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সামনে রেখে এই কর্মতৎপরতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ধারাবাহিকতায় একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়লের নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট থানা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করবে, এমন প্রত্যাশাই স্বাভাবিক।
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/18016
Page of