কদমতলী-রেলস্টেশন এলাকায় অনলাইন জুয়ার ‘প্রধান এজেন্ট’ করিমসহ গ্রেফতার ২
সিলেট :: সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া চক্রের প্রধান এজেন্ট আহমদ করিমসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন ও নগদ ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী বাস টার্মিনাল ও ভার্তখলা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআরবি-৯, সিপিএসসি, সিলেট।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিমাদল গ্রামের মৃত সাথীর আলীর ছেলে আহমদ করিম (৩০) এবং দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ভার্তখলা এলাকার মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৮)।
এসআরবি-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে কদমতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে আহমদ করিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন ও নগদ ১১ হাজার ৭৫ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে করিম প্রায় দেড় বছর ধরে কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের প্রধান এজেন্ট হিসেবে কাজ করার কথা জানিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে অর্থ ও টোকেন/সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ করে চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো এবং পরবর্তী সময়ে জুয়ার ফলাফলের ভিত্তিতে বিজয়ীদের অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করতেন তিনি। এ কাজে প্রতিটি লেনদেন থেকে কমিশন হিসেবে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতেন বলেও প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এতে বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপ, Google ও Google Chrome-এর মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের তথ্য, WhatsApp-এ জুয়া সংক্রান্ত যোগাযোগ, টোকেন/সিরিয়াল নম্বর লেনদেন এবং bKash লেনদেনের বিভিন্ন স্ক্রিনশট পাওয়া যায়। এছাড়া ভারতীয় অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্ম Shillong Teer-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও খেলার আলামতও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ভার্তখলা এলাকায় নতুন রেলওয়ে স্টেশনের পাশে একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায় এসআরবি-৯। অভিযানে অনলাইন জুয়া খেলায় ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনসহ আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়া চক্রের এজেন্ট/পরিচালনাকারী হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে জুয়ার অর্থ সংগ্রহ এবং টোকেন/সিরিয়াল নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য মূল এজেন্টের কাছে পাঠানোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মোবাইল ফোনেও অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়।
এসআরবি-৯ জানায়, কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা সিলেট শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল বাণিজ্যিক ও যাতায়াতকেন্দ্রিক এলাকা। প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদে পরিবহন শ্রমিক, বাসচালক, দোকানকর্মী ও অন্যান্য পেশার মানুষের মধ্যে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অনলাইন জুয়ার কুফল থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনলাইন জুয়া দ্রুত আর্থিক ক্ষতি, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আহমদ করিম ও আলমগীর হোসেনকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া চক্রের অন্যান্য এজেন্ট, পরিচালনাকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি-৯, সিপিএসসি, সিলেটের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।