logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৫ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

মাহবুবুর রহমান মোল্লা যোগদানের পর থেকে জৈন্তাপুরে পোনে দুই কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৫ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৫ অপরাহ্ন
মাহবুবুর রহমান মোল্লা যোগদানের পর থেকে জৈন্তাপুরে পোনে দুই কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

জৈন্তাপুরে মাদক-চোরাচালান দমনে ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান


জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :: সীমান্তঘেঁষা সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর গত প্রায় ৯ মাসে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী একাধিক অভিযান পরিচালনা, মামলা দায়ের, আসামি গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।


থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্রসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তপথে ভারতীয় পণ্য ও মাদক প্রবেশের সম্ভাব্য রুট, পরিবহন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।


সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী, জৈন্তাপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৫টি মামলা দায়ের এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ হাজার ২৪৭ পিস ইয়াবা ও ১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং ভারতীয় মদের মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এ ছাড়া পৃথক মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও ১৫০ পিস ইয়াবা, ১ কেজি গাঁজা ও ২৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উল্লিখিত অভিযানে ২ হাজার ৩৯৭ পিস ইয়াবা ও ৩৭ বোতল মদ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালনা করেছে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ। সেপ্টেম্বর মাসে ৪টি চোরাচালান মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৫০টি ভারতীয় কম্বল, ৫৫ প্যাকেট ওরিও বিস্কুট, ৪ হাজার ৩৪১টি ভারতীয় শাড়ি, একটি বড় ট্রাক, ৫০ ঘনফুট বালু, একটি ভারতীয় ইয়ামাহা মোটরসাইকেল এবং তিনটি ষাঁড়ের বাছুর।


পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, চোরাচালানবিরোধী এসব অভিযানে জব্দ করা পণ্য ও যানবাহনের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৬৪ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা। মাদক ও চোরাচালান—দুই খাত মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৭৩ লাখ ৬ হাজার ১০০ টাকা বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।


এর বাইরে জিডির ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে একটি এসএলআর (Self Loading Rifle) এবং একটি মরিচা ধরা পুরোনো পিন/লিভারও উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এসব ঘটনায়ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


জৈন্তাপুর সীমান্তে চলতি বছর বিভিন্ন সময় ভারতীয় চা-পাতা, কম্বল, জিরা, শাড়ি, মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনসহ অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পুলিশের ভাষ্য, ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার নয়, বরং সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা আগের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়েছে।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তিনি স্থানীয় অনেকের কাছে আস্থার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।


জৈন্তাপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। সীমান্তকে ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ দমনে অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়; নিয়মিতভাবেই এ কার্যক্রম চলবে।


তিনি বলেন, “জৈন্তাপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের পাশাপাশি অপরাধে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশের নজরদারি এবং অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/18014
Page of