আদর্শ নূরানী মাদরাসার সিরাত কনফারেন্স ও পুরস্কার বিতরণ
সিলেট :: সিলেটে আদর্শ নূরানী মাদরাসার উদ্যোগে দিনব্যাপী শিশু-কিশোর সিরাত কনফারেন্স ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেটের শহীদ সুলেমান হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন জামিয়া কাসিমুল উলুম মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা আসজাদ আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বোচ্চ ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর আদর্শ জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিশুদের সালাম দেওয়া, সত্য কথা বলা, আমানতদারিতা প্রতিষ্ঠা এবং মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারণের সঙ্গে দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সিরাত কনফারেন্স থেকে শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; বরং মাতা-পিতার কথা মানা, শিক্ষক ও ওস্তাদদের পরামর্শ গ্রহণ এবং পবিত্র কোরআনের আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার শিক্ষা নিতে হবে।
মহানবী (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরআনুল কারিমের আদর্শই ছিল মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ। কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ করতে পারলে তাঁর আদর্শে জীবন গঠন করা সম্ভব।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের সংকট প্রসঙ্গে তিনি গাজা ও বায়তুল মুকাদ্দাসের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য দোয়া এবং সন্তানদের ইসলামের ইতিহাস, গাজার ইতিহাস ও মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। এমন আয়োজনের জন্য তিনি আদর্শ নূরানী মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধান আলোচক হাফিজ মাওলানা আসজাদ আহমদ বলেন, সিরাতুন্নবী নিয়ে আলোচনা শুধু রবিউল আউয়াল মাসে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী হওয়া প্রয়োজন। মহানবী (সা.)-এর উত্তম আদর্শে আদর্শবান নাগরিক ও উম্মত গঠনে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও জীবনাদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। সিরাত শুধু জানার বিষয় নয়, তা জীবনে ধারণ ও বাস্তবায়নের বিষয়। শিশুদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর ভালোবাসা ও আচরণ থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামিয়া মাদানিয়ার মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ বলেন, শিশু-কিশোরদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন প্রমাণ করে নতুন প্রজন্ম ইসলামের ইতিহাস ও মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। সিরাতের আলোকে শিশুদের আলোকিত করে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, দরগাহ মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক মুফতি কয়েস আহমদ, নূরানী মাদরাসার উপদেষ্টা মাওলানা মইনুদ্দীন আহমদ ফয়েজ এবং আল-মাদিনা মডেল মাদরাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা ঈসা তালুকদার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আদর্শ নূরানী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন ফুয়াদ। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক মাওলানা ফুজায়েল আহমদ ও হাফিজ ফয়সাল আহমদ। অনুষ্ঠানে মাওলানা ফয়জুল হক, মাওলানা সারোয়ার হোসেন, হাফিজ সাহান আহমদ, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, হাফিজুর রহমান আহমদ, হাফিজ আবদুল্লাহসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সিরাত কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।