logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মৌলভীবাজার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৫ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
কমলগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকার ছবি ছড়িয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক

কমলগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকার ছবি ভাইরাল, তদন্তের আশ্বাস

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৫ অপরাহ্ন মৌলভীবাজার
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৫ অপরাহ্ন
কমলগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকার ছবি ভাইরাল, তদন্তের আশ্বাস

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষিকার টেবিলের ওপর মাথা রেখে বিশ্রাম নেওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের একাংশ ছবি ধারণ ও প্রচারের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নবনীতা সিনহা শ্রেণিকক্ষে টেবিলের ওপর মাথা রেখে ছিলেন। পরে তাঁর ওই অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, নবনীতা সিনহা ছয় মাসের বেশি সময়ের অন্তঃসত্ত্বা এবং ক্লাস নেওয়ার সময় শারীরিক অসুবিধা বোধ করায় কিছু সময়ের জন্য টেবিলে মাথা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার এই তথ্যের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।


স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ওই সময় একজন কথিত সাংবাদিক মোবাইল ফোনে শিক্ষিকার ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। তাদের প্রশ্ন, ছবি প্রকাশের আগে শিক্ষিকার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি তাঁর কাছে বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কি না।


তারা বলেন, কোনো শিক্ষক দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করলে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।


এদিকে বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র কুমার সিংহ সেখানে ছিলেন না। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার জন্য তিনি আদমপুর বাজারে গিয়েছিলেন।


ঘটনা সম্পর্কে শিক্ষিকা নবনীতা সিনহার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানিয়েছেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের ঘুমানোর নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে ছুটি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদারও ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষিকাকে ডেকে এনে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের একাংশ সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়টি সামনে এনেছেন। অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকার ওই অবস্থার কারণ ও ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপটও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ, শিক্ষিকার শারীরিক অবস্থা এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারের প্রেক্ষাপট তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হলেই বিষয়টি নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17860
Page of