সিলেটে বিশ্ব শান্তি দিবসে বিএমবিএফের আলোচনা সভা
সিলেট : জাতিসংঘ ঘোষিত ৪৫তম বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন (বিএমবিএফ) সিলেট বিভাগীয় শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেস কনফারেন্স হলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন (বিএমবিএফ) সিলেট বিভাগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ঢাকার জাতীয় সদরের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব মনসুর আহমদ লস্করের সভাপতিত্বে এবং বিএমবিএফ সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জাতীয় সদরের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব মনোরঞ্জন তালুকদারের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএমবিএফ সিলেট বিভাগের সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ডিজিএম ও বিএমবিএফ সিলেট বিভাগের উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন খন্দকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমবিএফ সিলেট বিভাগের সহ-সভাপতি ও সিলেট প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. হান্নান এবং মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মুছলেহ উদ্দিন আহমদ।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন মীর্জা রেজওয়ান বেগ, শ্যামল চৌধুরী, মো. খালেদ মিয়া, মো. বেলাল উদ্দিন, আব্দুল ওয়াদুদ, মো. ইউসুফ সেলু, মোছাম্মত রুনা সুলতানা, সিরাজুল হক, আব্দুল কাইয়ুম কামালী, লুলু কামালী, হুসনা চৌধুরী, এখলাছুর রহমান তালুকদারসহ বিএমবিএফের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা আজ মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সংঘাত, যুদ্ধ ও সহিংসতা শুধু মানুষের জীবন ধ্বংস করছে না, বরং উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের পথেও বড় বাধা সৃষ্টি করছে। শান্তি কেবল একটি শব্দ নয়; ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে শান্তিকে বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বৈষম্য, সহিংসতা ও ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, ন্যায়সংগত ও মানবিক বিশ্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনায় দেশের যুবসমাজের একটি অংশের মধ্যে মাদকাসক্তির বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন তরুণের জীবন ধ্বংস করে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার ও সমাজের ওপরও পড়ে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। খুন, ধর্ষণ ও মাদকের মতো অপরাধ প্রতিরোধে ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে হবে।