ওসমানীনগরে জামে মসজিদের সড়কে স্টিলের গেট, থানায় ও ইউএনওর কাছে অভিযোগ
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের বেরারাই সাকিনস্থ একটি জামে মসজিদে যাতায়াতের একমাত্র সরকারি ইটসলিং করা সড়কে স্টিলের গেট বসিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে দুদু মিয়া বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাদীপুর ইউনিয়নের বেরারাই গ্রামের জামে মসজিদে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতের কোনো একসময় সিরাজ মিয়া, আব্দুল খলিল, রাশেদ মিয়া, ছমছু মিয়া, ওয়ারিস মিয়া, আজাদ মিয়া, অঙ্গুর মিয়া ও তামিম মিয়াসহ কয়েকজন ওই সরকারি রাস্তায় স্টিল ও লোহার তৈরি একটি গেট স্থাপন করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে স্থানীয় মুসল্লিরা রাস্তাটি বন্ধ দেখতে পান। পরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবাদকারীদের একা পেলে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করা হয় বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে। পরে সরকারি রাস্তাটি দ্রুত উন্মুক্ত করা, স্থানীয়দের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসমানীনগর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী দুদু মিয়া ও স্থানীয় মুসল্লিরা বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি রাস্তাটি দ্রুত উন্মুক্ত করার পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, সরকারি রাস্তায় গেট স্থাপন এবং হুমকি-ধমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।