হবিগঞ্জে ইভটিজিং ও গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ::
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মেয়েদের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে ইভটিজিং এবং নারীদের গোসলের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ৯ নম্বর পুকড়া ইউনিয়নের কাঠখাল গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঠখাল গ্রামের উত্তরপাড়ার মেয়েরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শনিবার বিএনপি নেতা লুৎফুর মিয়ার বাড়ির নারী ও মেয়েদের ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন অপর বিএনপি নেতা এজারত মিয়ার বাড়ির ছেলেরা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এজারত মিয়ার বাড়ির ছেলেদের বিরুদ্ধে তাঁদের মুরব্বিদের কাছে কয়েক দফা বিচার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই জেরে রোববার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে পুলিশ অবস্থান নেয়।
বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও আহতের সংখ্যা পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ইভটিজিং এবং নারীদের গোসলের দৃশ্য ধারণের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।