logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১২ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শাহজালাল মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা নিয়ে অনিশ্চয়তা, থমকে আছে সমাধান

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১২ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১২ অপরাহ্ন
শাহজালাল মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা নিয়ে অনিশ্চয়তা, থমকে আছে সমাধান

সিলেট :: সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ আড়াই মাস পরও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এক মাসের মধ্যে একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামো নির্ধারণের কথা থাকলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।


এ অবস্থায় মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা, সংরক্ষণ ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাজারের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় মেটাতেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


এক মাসের প্রতিশ্রুতি, আড়াই মাসেও পূর্ণ সমাধান নেই


মাজারের দানবাক্সের অর্থ নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের পর ২৬ জুন ২০২৬ বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যুগোপযোগী ও যৌক্তিক কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।


কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই প্রতিনিধি এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। জেলা প্রশাসককে সদস্যসচিব করা হয়।


তবে ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্সের অর্থ গণনার পর সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়েছে এবং শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।


দানবাক্স সিলগালা নিয়ে বিতর্ক


এর আগে মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করেন। একই সঙ্গে মাজারে দান হিসেবে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।


এ নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অন্য পক্ষ এটিকে একতরফা উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করে।


পরে সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তাঁর উদ্যোগে সিলগালা করা দানবাক্স ও ডেগ খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শুরু হয়।


প্রথম দফার গণনায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


তৃতীয় দফায় মিলেছে প্রায় ৭১ লাখ টাকা


সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনা করা হয়। প্রায় ৩৪ দিন পর অনুষ্ঠিত ওই গণনায় নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।


গণনা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রণীতব্য নীতিমালার আলোকে ভবিষ্যতে দানবাক্সের অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।


দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ


মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্নার বক্তব্য অনুযায়ী, মাজার পরিচালনায় প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। দানবাক্সের অর্থ জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় থাকায় নিয়মিত খরচ মেটাতে সমস্যা হচ্ছে এবং কখনো কখনো ব্যক্তিগত অর্থ দিয়েও ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।


তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করেছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তও হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছে, পরবর্তী সভায় বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।


কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রীসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে মাজারের মোতোয়াল্লি উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টির সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।


দ্রুত নীতিমালা কার্যকরের দাবি


সংশ্লিষ্টদের মতে, মাজারের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে দানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব, নিরাপদ সংরক্ষণ, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের একটি নির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত নীতিমালা কার্যকর করা প্রয়োজন।


কারণ, একদিকে মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, অন্যদিকে মাজারের নিয়মিত কার্যক্রম ও সেবামূলক ব্যয় নির্বিঘ্ন রাখাও প্রয়োজন। এ দুইয়ের সমন্বিত সমাধানের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17608
Page of