সুনামগঞ্জের ৫ সংসদীয় আসনে ৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সুনামগঞ্জের তরুণদের বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে একটি করে মোট পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে বিদেশগামী তরুণদের কাজের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভাষা শেখানো হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের এই অঞ্চলের উঠতি বয়সী তরুণরা বিদেশ যেতে অনেক আগ্রহী। তবে বিদেশ পাঠালেই তো শুধু হবে না। বিদেশ পাঠাতে গেলে একটু প্রশিক্ষণ লাভে, একটু ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও প্রয়োজন আছে।”
তিনি বলেন, দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান ছাড়া বিদেশে গিয়ে একজন কর্মীর কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া কঠিন। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে তরুণদের প্রয়োজনীয় কাজের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে। নতুন ভবন নির্মাণ করতে সময় লাগবে। তাই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে বর্তমানে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত স্থান নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও সভায় তুলে ধরেন তিনি।
সভায় নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং দালালচক্রের প্রতারণা থেকে তরুণদের রক্ষা করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলে বিদেশগামী তরুণদের দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি দালালের মাধ্যমে অনিরাপদ ও অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।