হাউসবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পর্যটকবাহী হাউসবোট থেকে বৌলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রুকাইয়া নুর (১০) নামে এক শিশুর মরদেহ প্রায় ৪২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে তাহিরপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের কাছাকাছি বৌলাই নদীতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রুকাইয়া নুর ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার গলচামোট ২ নম্বর সড়ক এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক ডা. শাহনুর রহমানের মেয়ে।
এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরের পর তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণকুল গোদারাঘাট এলাকায় বৌলাই নদীতে চলন্ত হাউসবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হয় রুকাইয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুকাইয়া নুরসহ প্রায় ২০ জন পর্যটক ‘সাফিনা এ লাক্সারী ওয়াটার ভিলা’ নামের একটি হাউসবোটে করে মধ্যনগর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর ও তাহিরপুরের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে আসেন। পরে হাউসবোটটি যাদুকাটা নদীর উদ্দেশে রওনা হলে পথে দক্ষিণকুল গোদারাঘাট এলাকায় বৌলাই নদীতে হঠাৎ পড়ে যায় রুকাইয়া।
শিশুটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর হাউসবোটে থাকা পর্যটক ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন ধরে বৌলাই নদীতে তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার ভোরে পিরোজপুর গ্রামের কাছে নদীতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পর্যটন মৌসুমে হাউসবোটে শিশু ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নদীপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।