logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

নৌকায় চা বিক্রি করা বাবার স্বপ্নপূরণ, ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ পেলেন ছাতকের রুহি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
নৌকায় চা বিক্রি করা বাবার স্বপ্নপূরণ, ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ পেলেন ছাতকের রুহি

ছাতক প্রতিনিধি।

অভাব-অনটন আর জীবনসংগ্রামকে জয় করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জন করেছেন সুনামগঞ্জের ছাতকের মেধাবী শিক্ষার্থী মেরিন জামান রুহি। নদীতে নৌকা নিয়ে চা বিক্রি করে সংসার চালানো বাবার কষ্টকে সাফল্যে রূপ দিয়ে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (AUW) স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।


রুহি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের চা বিক্রেতা আব্দুল কাদিরের ছোট মেয়ে। তাঁর বাবা জীবিকার তাগিদে নৌকায় করে নদীতে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন। সেই স্বল্প আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে পরিবারের ভরণপোষণ এবং মেয়ের পড়াশোনার খরচ। আর্থিক সংকট থাকলেও মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াননি আব্দুল কাদির।


জানা গেছে, সুনামগঞ্জ উইমেন্স মডেল কলেজের ছয় মেধাবী শিক্ষার্থীকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা সমমূল্যের স্কলারশিপ পেয়েছেন। এই ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন ছাতকের মেরিন জামান রুহি।


এই স্কলারশিপের আওতায় রুহি আগামী চার বছর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন।


রুহির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবার দীর্ঘদিনের ত্যাগ। নদীতে নৌকা নিয়ে চা বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন আব্দুল কাদির। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি তিনি।


মেয়ের স্কলারশিপ অর্জনে আবেগাপ্লুত আব্দুল কাদির বলেন, মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে মেয়ের মেধা ও ইচ্ছাশক্তির ওপর তাঁর সবসময় বিশ্বাস ছিল। রুহির এই অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের কষ্ট ও সংগ্রামকে সার্থক করেছে। মেয়ের জন্য দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।


রুহির এই অর্জনে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বড় স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব—রুহির সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।


চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা বাবার নৌকা থেকে রুহির স্বপ্ন এবার পাড়ি দিচ্ছে উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর পরিসরে। তাঁর এই সাফল্য শুধু গণেশপুর বা ছাতকের জন্য নয়, সুনামগঞ্জের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও তরুণের জন্যও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।


রুহির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17204
Page of