logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৪ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

জৈন্তাপুর পৌরসভা নিয়ে ফেসবুকে সরব জনতা, দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রচারণা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৪ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৪ অপরাহ্ন
জৈন্তাপুর পৌরসভা নিয়ে ফেসবুকে সরব জনতা, দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রচারণা

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সরব হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবিতে সচেতন নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবিতে ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়েছে।


নিজেদের ছবি ব্যবহার করে ‘প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়ন চাই’ লেখা ডিজিটাল ব্যানার প্রকাশ করছেন অনেকে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি সম্ভাব্য পৌর এলাকার বিভিন্ন ছবি ও ডিজিটাল পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, প্রস্তাবিত পৌরসভা বাস্তবায়নের পক্ষেই স্থানীয় অনেক মানুষ মতামত দিচ্ছেন। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীরাও দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।


পৌরসভা বাতিলের দাবি সচেতন নাগরিক ফোরামের


এর আগে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবি জানায় ‘সচেতন নাগরিক ফোরাম’। সংগঠনটির অভিযোগ, পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং সীমানা নির্ধারণে নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারা পুনরায় নিরপেক্ষ সরেজমিন তদন্তের দাবি জানায়।


সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজা নিয়ে প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি, মৎস্য, শ্রম ও দিনমজুরির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় পৌরসভা গঠনের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


একই সঙ্গে জনসংখ্যা, জমির ব্যবহার ও সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবিতে মৌজাভিত্তিক লিখিত আবেদন এবং হাজার হাজার মানুষের গণস্বাক্ষরিত আপত্তিপত্র জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।


বিপরীত চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে


তবে ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। **‘জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়ন পরিষদ’**সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও নাগরিকের পক্ষ থেকে দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।


পৌরসভা বাস্তবায়নের পক্ষের অনেকের মতে, পৌরসভা হলে জৈন্তাপুর সদর এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ আধুনিক নাগরিক সুবিধা বাড়তে পারে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।


সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসিম তাঁর ফেসবুক পেজে প্রস্তাবিত পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। গেজেটে সীমানা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।


নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল মালিক মানিকের ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আহমেদ যুবায়ের রিপন মালিকও পৌরসভা বাস্তবায়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “নিজপাট তো আদিকালেই ছিলো রাজধানী। আজ যদি পৌরসভায় রূপ পায় তবে ক্ষতি কোথায়?”


এদিকে দৈনিক জৈন্তা বার্তার সম্পাদক ফারুক আহমেদও প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।


তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, প্রাচীন জৈন্তিয়া রাজ্যের রাজধানী, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ জৈন্তাপুর সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা দীর্ঘদিনের গণদাবি। গেজেটে সীমানা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ে পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।


ফারুক আহমেদ আরও বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘জৈন্তাপুরবাসীর প্রাণের দাবি—ঐতিহ্যের জৈন্তাপুর, আধুনিক পৌরসভা জৈন্তাপুর।’


দুই ধরনের মত, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় জৈন্তাপুরবাসী


প্রস্তাবিত পৌরসভা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রচারণায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একদিকে সচেতন নাগরিক ফোরাম পৌরসভা বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।


প্রস্তাবিত পৌরসভার সীমানা, জনসংখ্যা, জমির ব্যবহার, স্থানীয় মানুষের মতামত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় জৈন্তাপুরবাসী।


উল্লেখ্য, চলতি বছর সিলেটের জাফলংকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে; প্রস্তাবিত এলাকার তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17059
Page of