সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের দাবি
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ ও সম্প্রসারণের দাবিতে রেলপথ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন সংগঠনের নেতারা। সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক তারেক আল মঈনের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেয়।
জেলা প্রশাসক গুরুত্বের সঙ্গে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে শিগগিরই তা রেলপথ মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ ও সম্প্রসারণের দাবি যৌক্তিক। সুনামগঞ্জের পর্যটনশিল্পের বিকাশ, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কম সময়ে, কম খরচে ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এ রেলপথ নির্মাণ জরুরি। পাশাপাশি এ রেলপথ চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৭ লাখ মানুষের বসবাস। ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা হাওর-বাঁওড় পরিবেষ্টিত এ জেলার যোগাযোগব্যবস্থা মূলত সড়ক ও নৌপথনির্ভর। রেল যোগাযোগ না থাকায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ছেন।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ করা হলে বৃহত্তর সিলেট ও হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের ধান, মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য স্বল্প খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাটের চুনাপাথর খনি, নীলাদ্রী, শহীদ সিরাজ লেক, শিমুল বাগান ও বারিক টিলাসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। রেল যোগাযোগ চালু হলে এসব পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এতে পর্যটনশিল্পের ব্যাপক বিকাশের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, ১৯৫৬ সালে নির্মিত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সিলেট-ছাতক রেললাইন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে সুনামগঞ্জ জেলার মানুষ রেলসেবার সুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত।
স্মারকলিপি প্রদানকারী প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক আশিক চৌধুরী, উপদেষ্টা ও জনতা ব্যাংকের জিএম আব্দুল ওয়াদুদ, সদস্যসচিব আবাব মিয়া, মোস্তফা নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার চৌধুরী, আমিনুজ্জামান চৌধুরী হুমায়ুন, অ্যাডভোকেট কাজী সেবা, সাদিকুর রহমান, রিয়াজউদ্দিন, অলক রায় ও আবু সাঈদসহ অন্য নেতারা।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, হাওরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিকাশ, পর্যটনশিল্পের সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করতে সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।