জৈন্তাপুরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি, জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ১০০ পরিবার—বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা"
নিজস্ব সংবাদদাতা।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ঠাকুরের মাটি গ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনো সমাধান না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন প্রায় ১০০টি পরিবার। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বসতবাড়ি, সরকারি সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে গত ১৪ জুলাই এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর এলাকাবাসীর সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার সাময়িক বরাদ্দ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
তবে ১৫ দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরে ৪ আগস্ট (বুধবার) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকার প্রতিনিধিরা পুনরায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ড্রেন নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এই মুহূর্তে কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা সংগ্রহ করে প্লাস্টিকের পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহীর কার্যালয় থেকে ফিরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও স্থানীয় উদ্যোগে সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়-এর নির্দেশনায় ২২ জুলাই চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং ২৩ জুলাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
এলাকাবাসী জানান, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বসতবাড়িতে পানি প্রবেশের পাশাপাশি সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মসজিদে যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার, স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং সরকারি সড়ক সংরক্ষণ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ দ্রুত অনুমোদন দিয়ে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
পশ্চিম ঠাকুরের মাটি গ্রামের মানুষ এখন একটাই প্রত্যাশা করছেন—সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটুক।