প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আসছে নতুন নীতিমালা, ২০২৮ সালে চালু হবে নতুন কারিকুলাম: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
সিলেট : প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
রোববার (২৬ জুলাই) সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে।
তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ না করে বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে Foundational Learning শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্ট প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষকদের বেতন কাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে এটি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তবায়নের সময় পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট কার্যক্রম সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে সারাদেশে এ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর পাশাপাশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নতুন নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। নতুন নীতিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদ-এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এ সময় সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।