logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ১৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৪১ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

জকিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নতুন-পুরোনো মুখ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৪১ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৪১ অপরাহ্ন
জকিগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নতুন-পুরোনো মুখ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জকিগঞ্জ (সিলেট):


স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের পাশাপাশি ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এবার আলোচনায় রয়েছে কয়েকটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখের পাশাপাশি কয়েকজন নতুন মুখও।


জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় সরকার কাঠামোর পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, পরে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় পরবর্তীতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলে জানা গেছে।


জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন—জকিগঞ্জ পৌরসভার প্রথম ও প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সিলেট জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সালিশি ব্যক্তিত্ব হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, বিশিষ্ট সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সুয়েব লস্কর, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম রোকবানী জাবেদ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস ছবুর, বিএনপি নেতা মো. শাহীন আহমদ, মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান এবং ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী।


এছাড়া, এককভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মখলিছুর রহমানসহ আরও কয়েকজনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।


তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের কেউই এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি বা প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময় যত গড়াবে এবং তফসিল ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসবে, ততই নির্বাচনী মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত কোন কোন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন, তা তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।


নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শুরু হতে পারে। নির্বাচন শুরুর পরবর্তী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।


এদিকে নির্বাচনকে আরও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে ভোটকেন্দ্র ও বুথ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা বিবেচনায় বুথ পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাও রয়েছে।


বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান—এই তিনটি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একজন ভোটার তিনটি পৃথক ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রার্থীরা সাধারণত দলীয় প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।


তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনের পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় জনমতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16464
Page of