logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ১২ জুলাই ২০২৬ ০১:২৮ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাফলংয়ে সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে রিসোর্ট-গেস্ট হাউজ, তদন্তে উচ্ছেদের সুপারিশ

জাফলংয়ে সরকারি খাস জমি দখল করে রিসোর্ট-রেস্টুরেন্ট, উচ্ছেদের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১২ জুলাই ২০২৬ ০১:২৮ পূর্বাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১২ জুলাই ২০২৬ ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
জাফলংয়ে সরকারি খাস জমি দখল করে রিসোর্ট-রেস্টুরেন্ট, উচ্ছেদের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার।

সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে রিসোর্ট, গেস্ট হাউজ, রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের তথ্য উঠে এসেছে একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে। গোয়াইনঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই প্রতিবেদনে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয়েছে।


ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাফলং পর্যটন এলাকার সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে পর্যটকদের জন্য গাড়ি পার্কিংসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোনায়েম গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।


যেভাবে সরকারি জমি খাস খতিয়ানে আসে


তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চৈলাখেল ৩য় খণ্ড মৌজার এসএ ৫৬ নম্বর দাগে মোট ৮ দশমিক ২৫ একর বাগান শ্রেণির ভূমি মারন খাসিয়ানী নামে এক ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তারা ভারতে চলে গেলে জমিটি ‘অর্পিত ও অনাগরিক’ সম্পত্তি হিসেবে (ক গেজেট) তালিকাভুক্ত হয়। পরে বিএস জরিপে জমিটি ৮০ ও ৮১ নম্বর দাগে বিভক্ত করা হয়।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএস ৮০ নম্বর দাগের মোট ৫ দশমিক ৬১ একর জমির মধ্যে ৩ দশমিক ৫৯৫ একর তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) ক্যাম্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। অবশিষ্ট ২ দশমিক ০১৫ একর সরকারি জমি বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন।


অন্যদিকে বিএস ৮১ নম্বর দাগের ২ দশমিক ৬৪ একর ‘লায়েক পতিত’ শ্রেণির সম্পূর্ণ সরকারি জমিও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে


তদন্ত প্রতিবেদনে মোট আটজন দখলদার ও তাদের নির্মিত স্থাপনার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।


১. নলজুরীর আব্দুল কুদ্দুছ ‘জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট, ১৯টি দোকান ও একটি পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ করেছেন।


২. নলজুরীর ফারুক আহমদ ‘জাফলং ভিউ গেস্ট হাউজ’ নামে একটি গেস্ট হাউজ এবং ৯টি দোকান নির্মাণ করেছেন।


৩. মোহাম্মদপুরের আনোয়ার হোসেন ওরফে জুবের আহমদ ‘প্যারিস রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউজ’ পরিচালনা করছেন।


৪. জৈন্তাপুরের নুরুজ্জামান ‘জৈন্তা ভ্যালি রিসোর্ট’ এবং চারটি দোকান নির্মাণ করেছেন।


৫. লাখেরপাড়ের আলম বখত ‘জাফলং গ্রীন রেস্টুরেন্ট’ এবং সাতটি দোকান নির্মাণ করেছেন।


৬. একই এলাকার বাবুল বখত ‘রয়েল রিসোর্ট’ ও পাঁচটি দোকান নির্মাণ করেছেন।


৭. গুচ্ছ গ্রামের রায়হান ‘সীমান্ত রেস্টুরেন্ট’ এবং দুটি দোকান নির্মাণ করেছেন।


৮. লাখেরপাড়ের উমর আলী ‘পর্যটক ভিউ রেস্টুরেন্ট’ এবং তিনটি দোকান নির্মাণ করেছেন।


উচ্ছেদের সুপারিশ


ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনটি সহকারী কমিশনার (ভূমি), গোয়াইনঘাটের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য রক্ষা, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার এবং পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।


এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুললে জাফলংয়ের সৌন্দর্য যেমন সংরক্ষিত হবে, তেমনি পর্যটকরাও আরও উন্নত সেবা পাবেন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16406
Page of