১০১ খুনের লক্ষ্য ছিল রসু খাঁর, ১১ নারী হত্যার পর ধরা পড়ে থামে বিভীষিকা
১৮ বছর আগে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন রসু খাঁ। রসু খাঁ; যোনীপথে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া, স্তন কেটে ফেলাসহ এমন সব অপরাধে ২০০৯ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, সাথে আরও অভিযোগ ছিলো ১১ জন নারীকে ধর্ষণ।
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি একে একে ১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। এর মধ্যে ১১ বছর আগে চাঁদপুরে এক পোশাকশ্রমিককে হত্যার দায়ে রসু খাঁর ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ হাইকোর্টও বহাল রাখে। তবে ফাঁসির সেই আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি। রসু খাঁ এখন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সেলে আছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম রশিদ খাঁ ওরফে রসু খাঁর। বাবা আবুল হোসেন ওরফে মনু খাঁ ছিলেন খেতমজুর। বাবার মৃত্যুর পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে পরিবার। জমি নিয়ে বিরোধ আর অভাবের তাড়নায় রসু জড়িয়ে পড়েন ছোটখাটো চুরিতে।
এলাকাবাসী তাঁকে ‘চোর-চোট্টা’ বলে গালিগালাজ করত, যা তাঁর মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয়। ১৫-১৬ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। কিন্তু বাসরঘরে গিয়ে জানতে পারেন স্ত্রীর এক চোখ অন্ধ। এই ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং দুই বছর পর গর্ভবতী স্ত্রীকে ফেলে শ্যালিকা রীনা বেগমকে নিয়ে টঙ্গীতে পালিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেখানেই অপরাধ জগতের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জড়িয়ে পড়েন।
এর পর শুরু হয় তার অপরাধ। ভালোবাসার অভিনয়ে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের পর হত্যা করাই ছিল রসু খাঁর নেশা। লক্ষ্য ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর, কিন্তু ১১ জন নারীকে হত্যার পর পুলিশের জালে ধরা পড়ে থামতে হয় তাঁকে। বাংলাদেশের অপরাধ জগতের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস নাম রসু খাঁ।
২০০৯ সালে তাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত এখনো এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় নাই। ১৮ বছর ধরে জেলে আছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে ছোট্র শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে রসু খাঁর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।