রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল কোটি টাকার সৌরবাতি, অন্ধকারে ওসমানীনগরের গ্রামাঞ্চল
ওসমানীনগর প্রতিনিধি।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা-এর গ্রামীণ সড়ক, হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎচালিত স্ট্রিট লাইটগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এসব সৌরবাতি এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ২০ ফুট উঁচু স্টিলের খুঁটির ওপর স্থাপিত সৌরবাতির অধিকাংশের ব্যাটারি নষ্ট, সৌরপ্যানেল অকেজো কিংবা পুরো লাইটই চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রাত নামলেই নেমে আসে ঘন অন্ধকার।
পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা, সাদীপুর, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়াময়ী ও উছমানপুর ইউনিয়নের ইশাগ্রাই, হাজিপুর, আলীপুর, গলমুকাপন, সিরাজনগর, তিলাপাড়া, কামারগাঁও, মোবারকপুর, গাভুরটিকি, ইলাশপুর, দুলিয়ারবন্দ, কলারাই, ভাড়েরা, বরায়া কাজিরগাঁও, চকবাজার, মিরারগাঁও, খন্দকার বাজার, ইছামতী, থানাগাঁও ও লতিপুরসহ অসংখ্য এলাকায় স্ট্রিট লাইটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, বিকল সৌরবাতির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, “সরকার আলোর ব্যবস্থা করতে টাকা খরচ করেছে, কিন্তু সেই আলো জ্বলছে না। রাতে বের হতে ভয় লাগে। ছেলেমেয়েরাও ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না।”
আরেক বাসিন্দা আঙ্গুর মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত মেরামত না করলে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, স্থাপনের পর প্রথম এক বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। বর্তমানে এগুলো মেরামতের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে নেওয়ার কথা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র এক বছর দেখাশোনা করলেও পরবর্তীতে আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু প্রকল্প উদ্বোধন নয়, জনকল্যাণমূলক এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সৌরবাতিগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।